আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা বনের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শান্ত, স্নিগ্ধ জয়ন্তী নদী সাধারণত এক মায়াবী রূপে ধরা দেয়। পাহাড়ি ধারা থেকে উৎসারিত এই নদী সারা বছর প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নেয়। কিন্তু বর্ষাকালে, এই নদী কখনও কখনও তার স্বভাব বদলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। তখন এই স্নিগ্ধ নদী হয়ে ওঠে এক দুর্বার স্রোত, যা গ্রাস করে আশপাশের জনপদ ও অরণ্য।
জয়ন্তী নদীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর মধ্যে ১৯৯৩ ও ২০০৭ সালের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। সেই সময় প্রবল বর্ষণে নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। নদী উপচে পড়ে গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বনাঞ্চল। বন্যার জলে ভেসে গিয়েছিল গ্রামের রাস্তা, সেতু ও বিদ্যুৎ সংযোগ। বন্যার পরদিন দেখা যেত শুধু কর্দমাক্ত ধ্বংসস্তূপ আর বিধ্বস্ত মানুষের চোখ।
স্থানীয়রা বলেন, “জয়ন্তী আমাদের মা, কিন্তু রাগ করলে তিনিও নিঃশেষ করে দিতে পারেন।” তাঁদের জীবন নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—কখনো আশীর্বাদ, কখনো অভিশাপ।
বন্যার সময় বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। বেশ কয়েকটি ছোট গ্রাম থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুল, পঞ্চায়েত ভবন তখন অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে পরিণত হয়।
বন্যা কেবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, এটি এক সংগ্রামের গল্পও—মানুষ বন ও নদীর মাঝে কীভাবে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে। আজও বর্ষা এলেই সেই আতঙ্ক ফিরে আসে, কিন্তু জয়ন্তী নদীর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কখনো কমে না।

