২০২৫-এর পুজোয় বক্সার হাতছানি: বর্ষার পর এক নতুন জীবন!
পুজোর ছুটি মানেই বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। আর যদি সে সর্ষে আপনাকে টেনে নিয়ে যায় উত্তরবঙ্গের গহীন জঙ্গলে, যেখানে বর্ষার পর প্রকৃতি নতুন করে সেজে উঠেছে, তবে তো কথাই নেই! ২০২৫ সালের পুজোয় আপনার অফবিট গন্তব্যের তালিকায় শীর্ষে রাখতে পারেন বক্সা জঙ্গল। বর্ষার পর ঘন সবুজে মোড়া বক্সার নতুন সিজন খুলছে, যেখানে বন্যপ্রাণের আনাগোনা বেড়েছে, আর জঙ্গল যেন আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। এটি শুধু একটি জঙ্গল সাফারি নয়, এ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা যা আপনার মনকে মুগ্ধ করবে।
বর্ষার দীর্ঘ তিন মাস (১৬ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) বনভূমি বন্ধ থাকার পর, বক্সা ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প তার নতুন মরসুম শুরু করতে চলেছে। এই সময়ে বন্যপ্রাণীদের প্রজনন এবং প্রকৃতির নিজস্ব ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই বর্ষার পর জঙ্গল যখন তার পরিপূর্ণ রূপে ফিরে আসে, তখন সে এক অন্যরকম সৌন্দর্য ধারণ করে। গাছের পাতায় নতুন কচি সবুজের ঢেউ, বৃষ্টির জলে ধুয়ে পরিষ্কার হওয়া বাতাস, আর প্রকৃতির এক সতেজ গন্ধ – এ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
কেন বক্সা সেরা?
১. জীববৈচিত্র্যের সমারোহ: বক্সা শুধু বাঘের জন্য পরিচিত নয়, এখানে আছে এশিয়ান হাতি, বাইসন, লেপার্ড, চিতল হরিণ, সাম্বার, এমনকি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও সরীসৃপ। বর্ষার পর নতুন ঘাস আর গাছপালা গজানোর ফলে তৃণভোজী প্রাণীদের আনাগোনা বাড়ে, ফলে বাঘ ও অন্যান্য শিকারী প্রাণীদের দেখার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
২. পাখির স্বর্গরাজ্য: যারা পাখি দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য বক্সা এক অসাধারণ জায়গা। প্রায় ২৮৪ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে এখানে। ধনেশ, মাছরাঙা, মুনিয়া থেকে শুরু করে বিরল প্রজাতির বিভিন্ন পাখি আপনাকে মুগ্ধ করবে। বর্ষার পর পরিযায়ী পাখিদের আগমনও শুরু হয়।
৩. নিরালা পরিবেশ: পরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলির ভিড় এড়িয়ে যারা প্রকৃতির মাঝে শান্তিতে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য বক্সা আদর্শ। এখানকার হোমস্টেগুলো আপনাকে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে যাওয়ার সুযোগ দেবে।
৪. বর্ষা-পরবর্তী সবুজের সতেজতা: বর্ষার জলের কারণে জঙ্গলের গাছপালা আরও ঘন এবং সতেজ হয়ে ওঠে। রাস্তাঘাট ধুয়েমুছে পরিষ্কার হয়, আর সবুজের আস্তরণ যেন আরও গভীর হয়। এই সময়ে জঙ্গলের ভেতরের দৃশ্য হয় অনবদ্য।
৫. নতুন আবাসস্থলের বিকাশ: বন বিভাগ বক্সার ভেতরে প্রায় ৫২ হেক্টর এলাকা জুড়ে নতুন ঘাসভূমি তৈরি করছে। এটি বন্যপ্রাণীদের খাদ্যের উৎস বাড়িয়ে তুলবে এবং তাদের আরও বেশি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
আশেপাশের ১০টি দর্শনীয় স্থান যা আপনার মন জয় করবে:
১. বক্সা ফোর্ট: ঐতিহাসিক এই দুর্গটি ব্রিটিশ আমলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কারাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হত। ট্রেক করে এখানে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অসাধারণ।
২. জয়ন্তী গ্রাম ও নদী: ভুটান সীমান্তের কাছে জয়ন্তী নদী ও তার সংলগ্ন গ্রাম, প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষা করছে। নদীর পাথর আর বনের নিস্তব্ধতা মনকে শান্ত করে তোলে।
৩. লেপচাখা: বক্সা ফোর্ট থেকে আরও কিছুটা উপরে অবস্থিত এই ড্রুকপা গ্রামটি থেকে ভুটান হিমালয়ের ১২টি নদীর ভিউ দেখা যায়।
৪. রাজাভাতখাওয়া: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের প্রবেশদ্বার, যেখানে একটি প্রকৃতি ব্যাখ্যা কেন্দ্র রয়েছে।
৫. পুকরি মাই: একটি পবিত্র পুকুর যেখানে মাগুর মাছ ও কচ্ছপ দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান।
৬. সান্তালাবাড়ি: বক্সা ফোর্টের ট্রেকিং শুরু হয় এখান থেকেই।
৭. চিলাপাতা জঙ্গল: বক্সার কাছেই অবস্থিত এই ঘন জঙ্গল হাতিদের করিডোর হিসেবে কাজ করে।
৮. মহাকাল গুহা: জয়ন্তী নদীর তীরে অবস্থিত এই শিব মন্দিরটি ট্রেকিং প্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান।
৯. রায়মাটাং: বক্সা জঙ্গলের ভেতরে একটি ছোট্ট গ্রাম, যেখানে নদীপথ ধরে গাড়িতে পৌঁছানো যায়।
১০. সিকিয়াজোড়া: এখানে নৌকা বিহারের মাধ্যমে জঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণ উপভোগ করা যায়।
সুতরাং, ২০২৫ সালের পুজোয় যদি এক অন্যরকম ছুটি কাটাতে চান, যেখানে প্রকৃতির কোলে বন্যপ্রাণীদের সাথে আপনার সাক্ষাৎ ঘটবে, তবে বক্সা জঙ্গলই আপনার জন্য সেরা অফবিট গন্তব্য। তৈরি তো? সিদ্ধার্থ দাস ( call – 9831231358) আপনাকে ঘোরাবে বক্সার আনাচকানাচে

