বক্সা বনের বন্যপ্রাণী ও আলোকচিত্র: ক্যামেরায় বন্দি এক অন্য জগতের গল্প

 

বক্সা বন, আলিপুরদুয়ার জেলার হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এক বিস্ময়কর অরণ্য। এই অঞ্চল শুধু তার ঘন সবুজ অরণ্য ও পাহাড়ি নদীর জন্য নয়, বরং অসংখ্য বন্যপ্রাণীর জন্য বিখ্যাত। তাই প্রতিনিয়তই নানা প্রান্ত থেকে আলোকচিত্রী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিড় জমান বক্সা টাইগার রিজার্ভে। তাদের লক্ষ্য—এক ঝলক বিরল প্রাণী এবং সেই মুহূর্তটিকে ক্যামেরায় ধরে রাখা।

বক্সা বনে রয়েছে হাতি, চিতল, বাইসন, লেপার্ড, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, এবং বহু প্রকার পাখি ও প্রজাপতি। এখানে রাতের নিস্তব্ধতায় শোনা যায় স্লথ বিয়ারের গর্জন বা পেঁচার ডাক, আর দিনে দেখা মেলে কালো ধনেশ, সবুজ টোকান বা রঙিন কিংফিশারের উড়ান।

প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী সৌমিক রায়ের মতে, “বক্সা এমন এক জায়গা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে আপনি নতুন কিছু দেখতে পারেন। এখানে ধৈর্যই সফলতা এনে দেয়।” তিনি ২০২2 সালে জয়ন্তী নদীর ধারে একটি বিরল প্যাঙ্গোলিনের ছবি তুলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।

আলোকচিত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো — নিরবতা ও সহিষ্ণুতা। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত প্রাণী দেখা যায় না। তবে সেই একবারের দৃশ্য—হাতির একটি দল নদী পার করছে, বা চিতল হরিণ এক ফাঁকে জঙ্গলে উঁকি দিচ্ছে—সে মুহূর্তই হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

বক্সার আলোকচিত্র কেবল ছবি নয়, বরং তা একটি গল্প—প্রকৃতির ভাষায় বলা এক নিঃশব্দ কাব্য। এই বন আমাদের শেখায় ধৈর্য, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা—প্রকৃতির প্রতি, বন্যপ্রাণীর প্রতি।

বক্সা তাই শুধু পর্যটনের স্থান নয়, বরং এক জীবন্ত গ্যালারি, যেখানে প্রতিটি ছবি ধারণ করে এক গভীর, বুনো জীবনের ছায়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *