বক্সা ভ্রমণে গেলে যে ৮টি জায়গা ঘুরে দেখা একেবারে আবশ্যক

 

আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা জঙ্গল শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, বরং প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রহস্যে ঘেরা এক জীবনমঞ্চ। যারা কয়েকদিনের জন্য শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির কোলে আশ্রয় নিতে চান, বক্সা তাঁদের জন্য স্বর্গস্বরূপ। এখানে এসে ঘুরে দেখা উচিত এই আটটি অনন্য স্থান:

১. বক্সা দুর্গ (Buxa Fort)
ব্রিটিশ শাসনামলে রাজনৈতিক বন্দিদের কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত এই দুর্গটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের কোলে বসে থাকা এই দুর্গে পৌঁছাতে হয় হালকা ট্রেক করে। কথিত আছে, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুও এখানে কিছুদিন বন্দি ছিলেন।

২. লেপচাখা (Lepchakha)
বক্সা দুর্গ থেকে প্রায় ৪ কিমি উঁচুতে অবস্থিত একটি ছোট্ট লেপচা গ্রাম। এখান থেকে এক নজরে গোটা দোয়ার্স অঞ্চলকে দেখা যায়। মেঘের মধ্যে ডুবে থাকা এই গ্রাম প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য স্বপ্নপুরী।

৩. জয়ন্তী নদী ও গ্রাম (Jayanti River & Village)
জয়ন্তী নদীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা এক অপূর্ব অনুভূতি। নদীর পাশে ছড়িয়ে থাকা পাহাড় ও জঙ্গল এই জায়গাকে করে তোলে অতুলনীয়।

৪. চিলাপাতা বন (Chilapata Forest)
বক্সা টাইগার রিজার্ভের অংশ এই ঘন অরণ্যে রয়েছে হাতি, বাইসন, লেপার্ড, নানা প্রজাতির পাখি ও প্রজাপতির রাজ্য। চিলাপাতা জঙ্গল তার রহস্যময় সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে।

৫. পামসে টপ (Pamse Top)
উঁচু ট্রেকিং রুট ধরে পামসে টপ পৌঁছানো বেশ কষ্টকর হলেও উপরের দৃশ্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। ভোরে সূর্যোদয়ের সময় এখান থেকে দেখা যায় ভুটান সীমান্তের পাহাড়।

৬. সান্তালাবাড়ি (Santalabari)
এটি বক্সা দুর্গ ও লেপচাখার মূল প্রবেশপথ। এখান থেকে গাইডসহ ট্রেকিং শুরু হয়। ছোট দোকান, স্থানীয় খাবার ও আদিবাসী সংস্কৃতি এখানকার আকর্ষণ।

৭. রাজাভাতখাওয়া (Rajabhatkhawa)
বক্সা টাইগার রিজার্ভের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জায়গায় রয়েছে একটি ছোট মিউজিয়াম ও নেচার ইন্টারপ্রেটেশন সেন্টার, যেখানে স্থানীয় প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পর্কে জানা যায়।

৮. রিজার্ভ ওয়াচ টাওয়ার (Watch Tower)
বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ওয়াচ টাওয়ার থেকে সহজেই জঙ্গলের প্রাণী দেখা যায়। সকাল বা সন্ধ্যা হল পর্যবেক্ষণের আদর্শ সময়।

এই আটটি স্থান মিলিয়ে বক্সা হয়ে ওঠে প্রকৃতি ও ইতিহাসে ভরপুর এক বিস্ময়কর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। যারা সত্যিই প্রকৃতিকে ছুঁতে চান, তাঁদের জন্য বক্সা এক নিঃশব্দ ভালোবাসা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *